Categories
সংবাদ

রণেশ দাশগুপ্ত মানবমুক্তি, সাম্য ও কল্যাণের আদর্শে উজ্জীবিত একটি প্রতিষ্ঠান তাঁর জন্ম শতবার্ষিককে সামনে রেখে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা

রণেশ দাশগুপ্ত মানবমুক্তি, সাম্য ও কল্যাণের আদর্শে উজ্জীবিত একটি প্রতিষ্ঠান
তাঁর জন্ম শতবার্ষিককে সামনে রেখে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা

মানবমুক্তি, সাম্য ও কল্যাণের আদর্শে উজ্জীবিত একাগ্র জ্ঞানসাধক ও ত্যাগব্রতী রণেশ দাশগুপ্ত’র শততম জন্মবার্ষিকী আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০১২। বিংশ শতাব্দীর এই অসাধারণ মানুষটির শততম জন্মবার্ষিকীকে সামনে রেখে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সারা বছরব্যাপি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ঢাকা মহানগর সংসদের উদ্যোগে গত (২৩ সেপ্টেম্বর ২০১১, শুক্রবার) সকাল ১০টায় শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে (৬ষ্ঠ তলায়) রণেশ দাশগুপ্তের চিন্তার দিগন্ত, সংস্কৃতি চেতনা, সাহিত্য বিষয়ক ভাবনা ও মূল্যায়ন, সাংবাদিক জীবনের ছায়াচিত্র, তরুণদের সম্পর্কে ভাবনা শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে রণেশ দাশগুপ্ত’র জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে ৫ টি প্রবন্ধ উপস্থাপন ও এর উপর আলোচনা হয়। প্রবন্ধগুলো রচনা করেন দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক যতীন সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী, উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ শীশ, ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের শিক্ষক ড. সৌমিত্র শেখর ও সাংবাদিক দীপংকর গৌতম। প্রবন্ধসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মন্জুরুল আহসান খান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক কাজী মদিনা, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান, বাংলা একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ ও উদীচীর উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আখতার হুসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উদীচীর সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ ইদু এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল আলম। সেমিনারের শুরুতে রবীন্দ্রনাথের ‘কোন আলোতে প্রাণের প্রদীপ জ্বালিয়ে তুমি ধরায় আস’ সঙ্গীতটি পরিবেশনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদ।

সেমিনারে আলাচকরা বলেন, সাহিত্য-সংস্কৃতিই ছিল রণেশ দাশগুপ্ত’র আসল বিচরণ ক্ষেত্র। তাঁর রাজনীতি ছিল সংস্কৃতি সাধনারই অঙ্গ। দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদভিত্তিক জীবনদর্শনই ছিল তাঁর জীবনসাধনার চালিকাশক্তি। রণেশদা সারাজীবন ধরে আলো দিয়ে আলো জ্বালানোর কাজটি করে গেছেন। দেশ-বিদেশের সকল যুগের সকল মহান শিল্পী-সাহিত্যিক-লেখকদের জ্বালিয়ে দেয়া আলোকে আমাদের আলোকিত করে তোলাকেই রণেশদা তাঁর লেখালেখির মূল উদ্দেশ্য করে নিয়েছেন। তাঁর সেই উদ্দেশ্যের ধারাবাহিকতার সঙ্গে আমাদের যুক্ত থাকতেই হবে। সে-যুক্ততার দায় আমরা কিছুতেই এড়িয়ে যেতে পারি না।

আলোচকরা আরো বলেন, রণেশ দাশগুপ্ত কেবল একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। আর সেই প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে অনেকগুলো কামরা। প্রতিটি কামরাই আপন আপন সম্পদে সমৃদ্ধ। ত্যাগ, সৎসাহস, ধৈর্য, প্রজ্ঞা আর সৃষ্টিশীলতা এসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই রণেশ দাশগুপ্ত ঋষিতুল্য। তাঁর আদর্শ-নিষ্ঠা, আদর্শ প্রকাশে তাঁর অনুচ্চ কিন্তু দৃঢ় উচ্চারণ তাঁর প্রতিপক্ষকেও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধান্বিত করে তুলেছে। আর এ-সকল এসেছে তাঁর জীবনদর্শন থেকে। সেই জীবনদর্শন থেকেই গড়ে উঠেছে তাঁর সংস্কৃতি চেতনা। তিনি একাধারে ছিলেন সাংবাদিক, তাত্ত্বিক-রাজনীতিক, সৎ-সংগঠক, সাহিত্যবোদ্ধা ও সমালোচক। বহুক্ষেত্র-বিচরিত মানুষ হলেও তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ আত্মপ্রণোদনার উৎস।