Categories
সংবাদ

বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় গানে, শ্রদ্ধায় জহির রায়হানকে স্মরণ করলো উদীচী

Johir Raihanবৃষ্টিস্নাত শ্রাবণ সন্ধ্যায়, গানে, আলোচনায় পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বাংলা চলচ্চিত্র জগতের দিকপাল নির্মাতা, বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের লড়াকু যোদ্ধা জহির রায়হানকে স্মরণ করলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। জহির রায়হানের ৭৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ১৯ আগস্ট মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় (১৪/২, তোপখানা রোড- জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীতে)- এ উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের চলচ্চিত্র ও চারুকলা বিভাগের আয়োজনের অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই “আনন্দলোকে, মঙ্গলালোকে” এবং “আকাশ ভরা সূর্য তারা” গান দু’টি দলীয়ভাবে পরিবেশন করেন উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের শিল্পীরা। এরপর জহির রায়হানের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের চলচ্চিত্র ও চারুকলা বিষয়ক সম্পাদক শাকিল আহমেদ অরণ্য। এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা। উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি কাজী মোহাম্মদ শীশের সভাপতিত্বে এতে অংশ নেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক ডা. সাজেদুল হক রুবেল, গণতান্ত্রিক পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুর রহমান বাবু, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদার, চলচ্চিত্র ও চারুকলা বিষয়ক সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ এবং ঢাকা মহানগর সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ছোটবেলা থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির প্রতি অনুরক্ত জহির রায়হান ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়ার অপরাধে কারাবরণ করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের লড়াকু যোদ্ধা হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। পাশাপাশি ২৫ শে মার্চ কালরাত্রি এবং পরবর্তী সময়ে হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর নির্মম গণহত্যা নিয়ে নির্মাণ করেন “স্টপ জেনোসাইড”-এর মতো প্রামাণ্যচিত্র। জহির রায়হান নির্মিত চলচ্চিত্র “জীবন থেকে নেয়া” দেখে অসংখ্য বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য অনুপ্রাণিত হন।

মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে যখন পাকিস্তানি বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামসদের সহায়তায় নির্বিচারে বাংলার সূর্যসন্তান বুদ্ধিজীবীদের নির্বিচারে হত্যা করছিল, তখন জহির রায়হানের বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারও নিহত হন। সে হত্যাকাণ্ড থেকে বেঁচে যাওয়া জহির রায়হান পরবর্তীতে দেশে ফিরে নিজের বড় ভাইসহ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলেন। কিন্তু, স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি মিরপুর অঞ্চলে স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্তে নিখোঁজ হন জহির রায়হান। তারপর থেকে তাঁর আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। জহির রায়হানের অন্তর্ধানের ফলে বাংলা চলচ্চিত্র জগতই শুধু নয়, বাঙালির চিন্তাচেতনার জগতে শুন্যতা তৈরি হয় বলেও মন্তব্য করেন আলোচকরা। আলোচনা সভার পর প্রদর্শিত হয় জহির রায়হানের জীবন নিয়ে উদীচী’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেন্টু রায় নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র বয়ান “জহির রায়হান”।