বর্ধমান মাতালো উদীচী’র “হাফ আখড়াই”

ভারতের বর্ধমানে আয়োজিত “গঙ্গা-যমুনা নাট্য উৎসব”-এ নাট্যপ্রেমীদের মন জয় করলো উদীচীর দর্শকনন্দিত নাটক “হাফ আখড়াই”। ০২ অক্টোবর শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বর্ধমানের সংস্কৃতি মঞ্চে আয়োজিত হয় নাটকটির প্রদর্শনী।কলকাতার প্রখ্যাত টপ্পা গায়ক রামনিধি গুপ্ত প্রতিষ্ঠিত আখড়াইকে নিয়ে নাটকের গল্প আবর্তিত হয়েছে। গঙ্গা-যমুনা নাট্য উৎসবের আমন্ত্রিত দল হিসেবে “হাফ আখড়াই” এবং “বৌ-বসন্তি”-এ দুটি নাটক নিয়ে ভারত সফরে গিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
নাটক শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উদীচীর সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদারের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেয়া হয়। আর উদীচীর পক্ষ থেকে আয়োজকদের হাতে দেয়া হয় উদীচীর প্রতিষ্ঠাতা সত্যেন সেন-এর স্মারক গ্রন্থ, রণেশ দাশগুপ্ত রচিত “আলো দিয়ে আলো জ্বালা” এবং উদীচীর ইতিহাস বিষয়ক সংকলন “উদীচীর ৪০ বছর” গ্রন্থ। ০৩ অক্টোবর একই মঞ্চে পরিবেশিত হবে উদীচীর আরেক জনপ্রিয় নাটক “বৌ-বসন্তি”।

উদীচীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদারের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নাটক বিভাগের ৩০ সদস্যের একটি দল এ সফরে যাচ্ছে। উদীচীর কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম এ সফরে সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকী রচিত এবং নাট্য ব্যক্তিত্ব আজাদ আবুল কালাম পরিচালিত “হাফ আখড়াই” নাটকটির গল্প ঊনিশ শতকের গোড়ার দিকে বাংলা টপ্পা গানের একটি দলকে ঘিরে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, নারীর প্রতি সেসময়ের সমাজের দৃষ্টিভঙ্গী, ধনী-গরীব বৈষম্য প্রভৃতি বিষয়ই এ নাটকটির মূল প্রতিপাদ্য। নাট্যকার রতন সিদ্দিকী জানান, “১৮০৪ সালে বাংলা টপ্পা গানের জনক রামনিধি গুপ্ত কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন আখড়াই। নিজস্ব পদ্ধতিতে সঙ্গীত শিক্ষা প্রচলনের মাধ্যমে দ্রুতই কলকাতার অভিজাত শ্রেণীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। কিন্তু, বয়সের ভারে শিষ্য মোহনচাঁদের কাছে শিক্ষাগুরুর দায়িত্ব হস্তান্তরের পরই ধীরে ধীরে পাল্টাতে থাকে তাঁর প্রতিষ্ঠিত আখড়াইয়ের চেহারা। গুরু-শিষ্যের দ্বন্দ্বের এক পর্যায়ে মোহনচাঁদ গঠন করেন আলাদা দল, যার নাম হয় “হাফ আখড়াই”। এ দ্বন্দ্বই অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে “হাফ আখড়াই” নাটকে। পরিচালক আজাদ আবুল কালামের মতে মোহনচাঁদের হাতে দলের দায়িত্ব যাওয়ার পর বাংলা টপ্পা গানের আরেক বাঁক পরিবর্তন দেখা দেয়। এ পরিবর্তন শৈল্পিক না হয়ে ছিল গণমানুষমুখী। তাঁর কথায়, “ঐতিহাসিক উপাদান এখানে মূল উপজীব্য নয়, ইতিহাসের ছাইয়ের ভেতরে আত্মার হাহাকারই এই নাট্যক্রিয়ায় উষ্ণীষ”।

Leave a Reply