Categories
সংবাদ

প্রয়োজন হলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেব: গাজীপুর গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশে বক্তারা

প্রয়োজন হলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেব
গাজীপুরে গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশে বক্তারা

গত ৩ মে ২০১৩ গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিনিধি সম্মেলনের মাধ্যমে দেশব্যাপি সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঢাকার বাইরে প্রথম সমাবেশ করা হয় গত ১০ মে ২০১৩। গণজাগরণ মঞ্চের অনেকগুলো সমাবেশ হলেও ঢাকা জেলার বাইরে এই প্রথম। সমাবেশে যোগ দিতে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা: ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা থেকে গাজীপুর যায়। দুপুর ৩.৩০ মিনিটে প্রতিনিধি দলটি  গাজীপুর পৌঁছে। এর আগে দুপুরে গণজাগরণের কর্মীরা গাজীপুর চান্দানা মোড়ের একটি মাদ্রাসায় জুম্মার নামাজ আদায় করেন। বিকাল ৪ টায় শুরু হয় সমাবেশ। গাজীপুর গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকরা দাবী করেন, “আমরা সমাবেশ করব, একথা যখন হেফাজত জানতে পারে তখন তারা আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকে। পুলিশের কাছে সমাবেশের অনুমতি চাইতে গেলে তারা আমাদের অনুমতি দেয়নি। কিন্তু আমরা সংকল্প করেছিলাম এই সমাবেশ করব। আজ আপনারা দেখছেন, আমরা সমাবেশ করেছি।” সমাবেশে সম্মতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলার উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রলীগ(জাসদ) ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি-সহ স্থানীয় সকল প্রগতিশীল, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। বক্তারা বলেন, “ গণজাগরণ মঞ্চ সরকারের শত্রু নয়। আমরা ৭১-এর রাজাকার-আলবদরদের শত্রু। হেফাজতে ইসলাম রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও কোরআন শরীফসহ ধর্মীয় গ্রন্থে আগুন দিয়ে প্রমাণ করেছে, তারা ইসলাম ধর্মের বিপক্ষে। একই সাথে তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বেরও বিপক্ষে। তাই সমগ্র দেশবাসীকে তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার  হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” সবশেষে বক্তব্য রাখেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা: ইমরান এইচ সরকার। তিনি বলেন,“আমরা ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এই আন্দোলন শুরু করেছি, আমাদের দাবী স্পষ্ট। এরই মধ্যে আমাদের অনেকগুলো দাবী পূরণ হয়েছে। কিন্তু আমাদের ৬ দফা দাবী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘড়ে ফিরে যাবনা। হেফাজতে ইসলাম জামাতের হয়ে দেশে তা-ব শুরু করেছে। আমরা সবাই  আড়াই হাত লাঠি তৈরী রাখব, যেখানেই জামাত-শিবির ও হেফাজত তা-ব করবে, সেখানেই আমরা প্রতিরোধ করব। প্রয়োজন হলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেব”। তার বক্তব্যর পরপরই সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।