Categories
সংবাদ

নাচে, গানে মুখরিত হয়ে বর্ষবরণ করলো উদীচী

নাচে, গানে মুখরিত হয়ে বাংলা নতুন বছর ১৪২২ কে বরণ করে নিলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। নববর্ষের শুভলগ্নকে উদযাপন করতে গতকাল ০১ বৈশাখ-১৪২২ (১৪ এপ্রিল-২০১৫) সকাল ৭টায় রাজধানীর বাসাবো বালুর মাঠে (বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন) শুরু হয় উদীচীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। সকালে বিশিষ্ট সরোদ বাদক শাহাদাৎ আলী খানের সরোদ বাদনের মাধ্যমে শুরু হয় উদীচীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। এরপর তিনটি দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা। তারা পরিবেশন করেন “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো”, “আমি তাকডুম তাকডুম বাজাই” এবং “বাংলা আমার সরষে ইলিশ” প্রভৃতি গান। এরপর ছিল উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন শাখা সংসদের শিল্পীদের পরিবেশনা। উদীচীর শিল্পীরা পরিবেশন করেন একক সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্য। বর্ষবরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থলে রাখা হয় মুড়ি-মুড়কি ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী খাবারের ব্যবস্থা। ছিল নানা ধরনের বর্ণিল মুখোশ ও মাটির সরা। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ভারতের বিশিষ্ট লোকসঙ্গীত শিল্পী শুভেন্দু মাইতি লোক গান গেয়ে মাতিয়ে তোলেন উপস্থিত সবাইকে।

“মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা”Ñ এই চিরন্তন আকাক্সক্ষা নিয়ে আমাদের দ্বারে উপস্থিত হয়েছে নতুন বঙ্গাব্দ ১৪২২। কালবোশেখীর তীব্র থাবা যেভাবে সব জীর্ণ মলিন রিক্ততার দিনকে উড়িয়ে নেয়, ধ্বংসের উপর সৃষ্টি করে নতুন বসতি, ঠিক সেভাবেই যেন নতুন এ বছরে ধ্বংস হয় সংকীর্ণতা আর সাম্প্রদায়িকতার মানবতাবিরোধী সব অপশক্তি। মানবিক মূল্যবোধে জাগ্রত অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ যেন আবার উঠে দাঁড়ায় নতুন শক্তি আর সম্ভাবনা নিয়ে এবং এ সম্ভাবনার মাধ্যমে সমস্ত কালো মেঘ মুছে গিয়ে নতুন প্রাপ্তির আলোয় পুরো দেশ উদ্ভাসিত হয়, এ প্রার্থনা সবার। এ ভূখণ্ডের সকল জাতিগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে ধর্ম-বর্ণ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে একসাথে নিয়ে উদযাপন করতে চায় উদীচী। মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠী যে অন্ধকারের দিকে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে ঠেলে দিতে চাইছে, সেই অপচেষ্টা থেকে দেশকে মুক্ত করতে সম্মিলিত প্রয়াস হোক এবারের নববর্ষে আমাদের নতুন অঙ্গীকার।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.