জঙ্গীবাদ নির্মূল ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে

গত বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহতভাবে বেড়ে চলেছে সহিংসতা। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা, মানুষকে অগ্নিদগ্ধ করা এবং সহিংসতা দমনের নামে নানা অমানবিক পন্থা অবলম্বনের ফলে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে দেশের সাধারণ মানুষের জীবন। ভেঙ্গে পড়েছে দেশের স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের শিল্প, বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন খাতে চরম বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এছাড়া, এসব অপরাধের সাথে জড়িতরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না পেলে অদূর ভবিষ্যতে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি মারাত্মকভাবে বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই, অরাজক, অবরুদ্ধ, সহিংস পরিস্থিতি থেকে দেশ ও জীবন রক্ষা, জঙ্গীবাদ নির্মূল ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে আগামী ২৪ জানুয়ারি দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে ছাত্র-যুব-পেশাজীবী-শিল্পী-কর্মী-ক্ষেতমজুর-কৃষক-চিকিৎসক-প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল গণসংগঠন। ওইদিন বিকাল তিনটায় রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচিটি পালিত হবে। একই সময়ে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় একই কর্মসূচি পালন করবে গণসংগঠনগুলো।

কর্মসূচি আয়োজন ও তা সফল করার লক্ষ্যে গত ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণসংগঠনগুলোর এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উদীচী ছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, প্রগতি লেখক সংঘ, কৃষিবিদ ইউনিয়ন, ডক্টরস ফর হেল্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি, রণেশ দাশগুপ্ত চলচ্চিত্র সংসদ, ইঞ্জিনিয়ার এ্যান্ড আর্কিটেক্ট ফর এনভায়রনমেন্ট এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, বিপ্লবীদের কথা প্রভৃতি গণসংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, আগামী ২৪ জানুয়ারি দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করার পাশাপাশি সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে ধারাবাহিক কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।

Leave a Reply