কাফরুল শাখার সম্মেলনে পুলিশি বাধার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

যথাযথ প্রক্রিয়ায় আগে থেকে জানানোর পরও উদীচী কাফরুল শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উন্মুক্ত অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রে পুলিশের বাধাদানের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। গত ০৩ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করা হয়। উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি কাজী মোহাম্মদ শীশ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদার, উদীচী কাফরুল শাখার সভাপতি মিতা রায়, যুব ইউনিয়ন নেতা রাসেল মাহমুদ সুজন, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, উদীচী কাফরুল শাখার সাবেক সভাপতি কাজী আরিফুদ্দিন রোকন প্রমূখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি দু’বছর পরপর উদীচী’র প্রতিটি জেলা ও শাখা সংসদ নিজ নিজ সম্মেলন আয়োজন করে। সেই মোতাবেক গত ০২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর সংসদের আওতাভুক্ত কাফরুল শাখা উদীচী’র সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে পুলিশকে ওই সম্মেলনের উন্মুক্ত অনুষ্ঠানের বিষয়ে জানানো হলেও অনুষ্ঠানের আগে যুক্তিযুক্ত কোন কারণ ছাড়াই মঞ্চ ভেঙ্গে দেয় পুলিশ। উদীচী নেতৃবৃন্দের বারবার অনুরোধ ও আপত্তি সত্ত্বেও এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চ ভেঙ্গে দেয় পুলিশ। এধরনের আচরণ কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আচরণ হতে পারে না। এই মুহূর্তে দেশে কোন জরুরী অবস্থা জারি নেই। অথবা উন্মুক্ত স্থানে সভা-সমাবেশও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেননি ঢাকা মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ। তারপরও কোন যুক্তিতে উদীচী’র কাফরুল থানা সম্মেলনের উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে বাধা দেয়া হলো তা বোধগম্য নয়।

বক্তারা আরো বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে উদীচী’র জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে গঠনতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী সামনের কয়েক মাস সারাদেশে জেলা ও শাখা পর্যায়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ভবিষ্যতে কোথাও কোন সম্মেলনে যদি আবারো এধরনের বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটে তাহলে দেশে ও বিদেশে উদীচী’র তিনশ’রও বেশি শাখায় একযোগে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। তারা বলেন, ১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী মহান স্বাধীনতা সংগ্রামসহ দেশের প্রতিটি অসাম্প্রদায়িক, মৌলবাদবিরোধী এবং মানুষের ন্যয়সঙ্গত অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছে। উগ্র ধর্মান্ধতা, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে উদীচী’র শিল্পী-কর্মীরা সর্বদাই রাজপথে সোচ্চার থেকেছেন। এ কারণে ১৯৯৯ সালে যশোর এবং ২০০৫ সালে নেত্রকোনায় দু’দফা উগ্র মৌলবাদী অপশক্তির ঘৃণ্য বোমা হামলার শিকারও হতে হয়েছে উদীচীকে। শুধু অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ নয়, বাংলার আবহমান সংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং প্রচার ও প্রসারেও ভূমিকা রেখে চলেছে উদীচী। দেশের অন্যতম বৃহত্তম প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী’র কাফরুল শাখার সম্মেলনে বাধা দেয়ার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে প্রগতিশীল সংস্কৃতি চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করা হলো বলেও মনে করে উদীচী। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ এবং ঢাকা মহানগর সংসদ এ ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং এর সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে। বিক্ষোভ সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.