Categories
প্রবন্ধ

উদীচীর সাংস্কৃতিক সম্মেলন ও প্রত্যাশা: গোলাম মোহাম্মদ ইদু

উদীচীর চলার পথপদর্শক প্রয়াত রণেশ দাশ গুপ্ত বলেছিলেন,সংস্কৃতি ক্ষেত্রে সারা বাংলায় অনেক মূল্যবান উপাদান ছড়িয়ে আছে যা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে এগিয়ে যাওয়ার। শুধু নান্দনিক দিক থেকে নয়.তার ঐতিহ্য নিয়ে সংগ্রামের মাধ্যমে বেচেঁ থাকার জন্য তা মূল্যবান। সেই আলোকে উদীচী পাথেও হিসেবে বেছে নিয়েছে এই সাংস্কৃতিক সম্মেলন। উদীচীর বিভিন্ন কর্মকান্ডের মধ্যে একটি হলো এই সাংস্কৃতিক সম্মেলন। এর মধ্য দিয়ে উদীচী বুঝে নিতে চায় তার পথ চলায় তার শক্তি সামর্থ ।
গতবার দেশের জেলা ও থানা মিলিয়ে ৫২টি শাখা তাদের অনুষ্ঠান ঢাকার শহীদ মিনারে পদর্শন করেছে। এবার এর শংখা অনেক বৃদ্ধি পাবে। এজন্য দু দিনের স্থলে তিন দিনের অনুষ্ঠানের পরিশর বারানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৭০ থেকে ৭৫টি উদীচী শাখা এবার অনুষ্ঠানে অংশ নেবে বলে জানা যায়। অনুষ্ঠানের বিষয় গুলোর মধ্যে গতবার যা ছিল এবার দেশের আনাচে কানাচে থেকে খুঁজে পেতে ঢাকার দর্শকদের জন্য নতুন কিছু প্রদর্শন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর সার্বিক আয়োজনের কুশিলব যারা কেন্দ্র বা শাখার তাদের অভিনন্দন জানাই। তারা দেশের দুরদুরান্ত থেকে দল নিয়ে ঢাকায় আসছেন তদের সবাইকে জানাই সংগ্রামী অভিন্দন।
উদীচীর জাতীয় সম্মেলনে গতবার শহীদ মিনারে সম্মেলন উদ্বধোন করেছিলেন গ্রাম বাংলার বিভিন্ন অংশ থেকে আগত ২১ জন বীরাঙ্গনা,মুক্তিযুদ্ধের সময় মৌলবাদী জামাতি আলবদর আসামস ও রাজাকাররা যাদেরকে পাক মেলেটারি হায়নাদের লালশার খোরাক বানিয়েছিল। এবার উদীচী বৃহৎ এই সাংস্কৃতিক সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আমাদের দেশের ১১জন বাউল মানুষকে হেও জ্ঞানকারী কতৃত্ব বাদি অলিক বিশ্বাসি শত্রুরা যারা ভূমি পুত্র যে বাউলদের চুল দারি কেটে অপমানিত করেছিল সেই বাউলগন। আনন্দ চিত্তে সম্মেলন উদ্বধোনে তারা অংশ নিবেন বলে জানিয়েছেন। এজন্য আমরা তাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিন দিন ব্যাপী ২১,২২,২৩ অক্টোবর ১১ অনুষ্ঠিতব্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমাদের উদীচী সদস্য শিল্পীদের ব্যপক সমাবেশ ঘটবে। তিন দিন ব্যাপী তাদের রক্ষনাবেক্ষন.অনুষ্ঠান করা.আবাসন,খাদ্য ও যাতায়াত সমস্য এ সকল সার্বিক সমস্যায় কিছু ত্রুটি দেকা দিতে পারে। এজন্য সাথী সূলভ মনোভাব সম্ভাব্য ত্রুটিগুলো দুর করতে পারবে। এ মনোভাব উদীচী শিল্পী কর্মীদের অব্যহত রয়েছে বলে মনে করি।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মান নিয়েও ভাবনা রয়েছে। (গণ সংগীত সম্মেলনে অনুষ্ঠান গুলোতে আমাদের তেমন ভাবতে হয় না) এর বিচার বিশ্লেষনের প্রয়োজন রয়েছে। উদীচীর অনুষ্ঠান এক দিনেই শেষ হয়ে যায় না। দু বছর অন্তর আমাদের মান জাচাই হচ্ছে। আমাদের উপস্থাপনা যত তুচ্ছই হোক না কেনো আমাদের পূর্বজরা রেখে গেছেন তা যদি আজ আমাদের এই সমাজে প্রচলন হয় তাহলে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করবো। আমরা সবাইকে নিয়ে ফলপ্রসু পরিবর্তনে যেতে চাই যে পরিবর্তনে কারো কোনো শোষন থাকবে না। আমরা সবাই শোষন মুক্ত এক সমাজের স্বপ্ন দেখি।
উদীচীর সাংস্কৃতিক সম্মেলনে সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।
জয় উদীচী