Categories
উদীচী বার্তা প্রকাশনা

উদীচীর প্রথম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা ওয়াহিদ খানের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

উদীচীর প্রথম সাধারণ সম্পাদক
মোস্তফা ওয়াহিদ খানের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’র প্রথম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা ওয়াহিদ খানের অষ্টাদশ মৃত্যুবার্ষিকীতে গত ১ আগস্ট সংগঠনের তোপখানাস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। স্মৃতিচারণ, সঙ্গীত ও আবৃত্তি’র মাধ্যমে স্মরণ করা হয় তাঁকে। অধ্যাপক বদিউর রহমানের সভাপতিত্বে স্মৃতিচারণ করেন, মোস্তফা ওয়াহিদ খানের সহধর্মিনী ফেরদৌস মহল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ সেলিম, তমিজ উদ্দিন, উদীচীর সহ-সভাপতি শিবানী ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, জামসেদ আনোয়ার তপন প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম, অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন বেলায়েত হোসেন, সঙ্গীত পরিবেশন করে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদ।
আলোচনা পর্বে মাহমুদ সেলিম বলেন, প্রত্যেককে নিজের কথা ভাবতে হয়। কিন্তু আমরা যারা সংস্কৃতিকর্মী তাদের সবাইকে নিয়ে ভাবতে হয়। ওয়াহিদ ভাই সেই কাজটাই করতেন। যারা আমাদেরকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন ওয়াহিদ ভাই তাদেরই একজন। প্রত্যেকের মধ্যে ভাই-বোনের সম্পর্ক তৈরি করতেন। তিনি উদীচীকে একটা পরিবার মনে করতেন এবং এই পরিবারকে একত্রে রাখার কাজটাই তিনি করতেন।
তমিজ উদ্দিন বলেন, তিনি কর্মীদের পরিবারের মধ্যে ঢুকে যেতেন। কারো কোনো সমস্যা হলে ছুটে যেতেন তার কাছে। উদীচী কর্মীদের কোনো সমস্যা বুঝতে দিতেন না। তার সংস্পর্শে যারাই এসেছেন তাকেই উদীচী করতে হয়েছে। শিবানী ভট্টাচার্য বলেন, ‘ওয়াহিদ ভাই কখনো বুঝতে দিতেন না যে আমার কোনো বড় ভাই নেই। সব সময় ছায়ার মত থকতো।
হাবিবুল আলম বলেন, উদীচী একটা বড় সংগঠন হবে ওয়াহিদ ভাই সেই স্বপ্ন দেখতেন সবসময়। উদীচী মূল কাজগুলো তিনিই করতেন। তিনি সব সময় কর্মীদের খবর রাখতেন, তাদের বাড়িতে যেতেন। আমরা যখন কোনো সমস্যায় পড়তাম তখন তিনি তার সমাধান করতেন এমনকি আর্থিক দিকটাও তিনি নিজে দেখতেন। তার জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। অমিত রঞ্জন দে বলেন, মোস্তফা ওয়াহিদ খান উদীচীর নিউক্লিয়াস ছিলেন। সেসময় তাঁকে ঘিরেই উদীচীর সব কাজ হতো। ছোট-বড় সবাই তাঁর কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি নির্দিষ্ট কোনো বিভাগের সাথে কাজ না করলেও বিভাগগুলো চলার জন্য যা যা প্রয়োজন সে কাজটি তিনি করতেন। শিল্পীদেরকে সংগঠিত করা, কাকে কোথায় কী কাজে লাগানো যাবে তা ঠিক করে দিতেন। জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, শিল্পের দায়িত্ব অসুন্দরকে সুন্দর করা সেই চেতনা থেকে উদীচী করতেন ওয়াহিদ ভাই।