গঠনতন্ত্র: ২০১৪ সালে উনবিংশ জাতীয় সম্মেলনে সংশোধিত

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী

ঘোষণাপত্র

মুক্তির ব্রত নিয়ে হতাশা নৈরাজ্য আর গঠনতন্ত্র প্রচ্ছদ;পরাধীনতার বিরুদ্ধে যখন জেগে উঠেছে শৃক্সখলিত মানুষ, সেই আন্দোলন মুখরিত ঊনসত্তুরে গণ-অভ্যুত্থানের প্রাক-পর্বে শ্বাসরুদ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবে আটষট্টির ঊনত্রিশে অক্টোবর শিল্পীসংগ্রামী সত্যেন সেনের নেতৃত্বে ঢাকা নগরীর উত্তর প্রান্তে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’। নিপীড়িত মানুষের গান গাইবার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল উদীচী। ১৯৭১ সালে হাজারো মুক্তিসংগ্রামীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উদীচীর ভাইবোনেরা যুক্ত হয়েছিল স্বাধীনতার যুদ্ধে। শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীর রক্তধারা মিশেছিল অযুত বীরের আত্মবলিদানের সঙ্গে।

লাখো মানুষের পরম আত্মদানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে শোষণ বঞ্চনার যেমন অবসান ঘটবে, তেমনি সংস্কৃতি বিকাশের পথ হবে বন্ধনমুক্ত। এই আকাঙ্খা ছিল সকলের মনে।

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের যে সংগ্রাম, শহিদদের যে আত্মদান, তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি শোষণহীন সুখী সমৃদ্ধশালী সমাজ প্রতিষ্ঠা। সামাজিক আর্থনীতিক পশ্চাৎপদতার অভিশাপ মোচন করে দেশ অগ্রসর হবে প্রগতির পথে। দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতা মোচন করে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জীবনের মানবিক বিকাশের পথ হবে উন্মুক্ত। ব্যক্তিসর্বস্বতা, সা¤প্রদায়িকতা ও অপসংস্কৃতির দ্বারা লালিত বিকৃত চিন্তা-চেতনা থেকে মুক্ত হয়ে ব্যক্তি ও সমাজের পরিপূর্ণতা অর্জনের সাধনায় মানুষ ব্রতী হবে এই ছিল আশাবাদ।

কিন্তু আজ এক গ্লানিকর বিপরীত বাস্তবতা আমাদের জীবন ঘিরে রেখেছে, গ্রাস করে চলেছে আমাদের স্বাধীনতার বিভিন্ন অর্জনসমূহ। রুদ্ধ করে চলেছে আমাদের মানবিক বিকাশের সকল পথ। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সংবিধান আজ ক্ষতবিক্ষত। রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির মধ্যে সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ আজ নির্বাসিত। মানুষে মানুষে বৈষম্য সৃষ্টিকারী অবাধ ধনবাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা দেশ ও সমাজকে ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত করে দিচ্ছে। পুঁজিবাদের দানবিক উত্থান, তৃতীয় বিশ্বের একটি পশ্চাৎপদ দেশে বৈষম্যমূলক ধনবাদী অর্থনীতি একদিকে যেমন দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে শোষণ নিপীড়নের শিকারে পরিণত করেছে, অপরদিকে তেমনি গোটা দেশকে নয়া-ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নিকট বন্ধক রেখে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এই পুঁজিভিত্তিক শাসনব্যবস্থা আন্তর্জাতিক পুঁজিবাদের সমর্থন ও সাহায্যপুষ্ট হয়ে স্বীয় ক্ষমতা জোরদার করছে। লুটেরা ও মুক্তবাজার অর্থনীতি কায়েমের মাধ্যমে দেশকে ঋণগ্রস্ত ও পরনির্ভর করে ব্যক্তিপুঁজির বিকাশ, জাতীয়করণকৃত শিল্প ব্যক্তিমালিকানায় প্রত্যর্পণ, জাতীয় অর্থনীতির বিকাশের পথ রুদ্ধ করে আর্থনীতিক ক্ষেত্রে বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। এই পরনির্ভরশীল ধনবাদী ব্যবস্থায় দেশবাসীকে শৃক্সখলিত করার জন্য একদিকে যেমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রীতিকে পদদলিত করা হচ্ছে, অপরদিকে তেমনি জাতীয় সংস্কৃতিকে বিকৃত, বিভ্রান্ত ও বিনষ্ট করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নেওয়া হচ্ছে।

ফলে আমাদের সামাজিক সংস্কৃতি আজ এক চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। দেশে নিরক্ষরতার ক্রমশ বৃদ্ধি ঘটছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা সঙ্কটময়তায় ভেঙে পড়ছে। শিক্ষা মানবিক শক্তি ও গুণাবলি সম্প্রসারণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রসারের নামে শিক্ষার ঢালাও বাণিজ্যিকীকরণ বস্তুত শিক্ষা ব্যবস্থার মূলে কুঠারাঘাত। পুঁজিবাদী ধারায় শিক্ষার প্রসারই অর্থনির্ভর শিক্ষানীতি; যার মূল উদ্দেশ্য আমাদের জাতিসত্তার শেকড় উৎপাটন। মানবিক মূল্যবোধগুলো আজ ভূলুণ্ঠিত। উগ্র ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার সমাজ ও রাষ্ট্রনেতাদের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করছে। দুর্নীতি ও লুণ্ঠন ধনোপার্জনের পন্থা হিসেবে স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত। ধনবাদী প্রথানুযায়ী একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতা তাদের সকল লাজলজ্জা বিসর্জন দিয়ে নীতিহীনতার দম্ভে স্ফীত হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধাগুলোর অপব্যবহার করে বিকৃত মানসিকতার প্রসার ঘটিয়ে জনগণের সুকুমার বৃত্তিকে আচ্ছন্ন করা হচ্ছে।

অসুন্দর ও অমানবিকতার দাপটে সুন্দর ও মানবিকতার শক্তি আজ কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। মারাত্মক পরিবেশ দূষণে মানবজীবন আজ হুমকির সম্মুখীন। পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা মানুষকে করে তুলেছে অমানবিক। তার স্বাভাবিক মানবিক গুণাবলি ঢাকা পড়ে যাচ্ছে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির কাঠামোর চাপে। দুর্নীতি, লালসা, হিংসা, পরস্পর বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদি ঢেকে দিচ্ছে দেশপ্রেম, মানবপ্রেমের মতো সকল সদর্থক মূল্যবোধকে।

আমরা মনে করি, এই গভীর অন্ধকার থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে আমাদের আলোক অভিযান সফল করে তুলতে হলে সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংস্কৃতির শক্তিতে এক নতুন জাতীয় উজ্জীবন ঘটাতে হবে। আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে, শিল্পী ও শিল্পের মৌলিক ও সর্বপ্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সমাজকে নিরন্তর প্রগতি অভিমুখে নিয়ে যাওয়া, মানুষের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত হওয়া। আমরা মনে করি যে, আমাদের বিপুল ঐতিহ্যসমৃদ্ধ সংস্কৃতি, শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষের নানা সৃষ্টিশীল উপাদানে যা সমৃদ্ধ, তা আজ আমাদের আরো গভীরভাবে বরণ করতে হবে। আমাদের ঐতিহ্যের সকল সদর্থক দিক ও প্রগতিশীল উপাদানসমূহ একান্তভাবে আত্মস্থ করে নতুন সৃষ্টিশীলতার দ্বারা সংস্কৃতির নবতর বিকাশের শক্তি সঞ্চয় করতে হবে।

যেকোনো সমাজের সংস্কৃতির বিকাশ ও নবজাগরণের মূল ভিত্তি তার লোকসংস্কৃতি। বাঙালির লোকায়ত জীবনের সংস্কৃতি নানা উপাদান ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। লোক ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতিতে নবতর বিকাশ ঘটানোর চেতনা দ্বারা সিঞ্চিত করে আমরা তা উজ্জীবিত করে তুলতে পারব।

একটি ব্যাপকভিত্তিক সাংগঠনিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে সংস্কৃতির এই নবজাগরণ ঘটাতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। আন্তর্জাতিকভাবেও সংস্কৃতির মানবিক জীবনবাদী ধারার সাথে সম্পৃক্তি রচনায় আমরা প্রয়াসী।

পীড়নমূলক শাসন ও শোষণব্যবস্থা মানুষের সহজাত সৌন্দর্যবোধ ও শিল্পচেতনা, তার সৃষ্টিশীলতা ও সংস্কৃতিময়তা, মানুষের প্রতি মানুষের মমত্ববোধ ও ভালোবাসা এবং শিল্পের বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে আত্মবিকাশের স্বাভাবিক আকাঙ্খাকে বিনষ্ট করে দেয়। এই মানবিক বোধসমূহ জাগ্রত ও বিকশিত করে তোলা শিল্পী, শিল্পীগোষ্ঠী বা শিল্পীসম্প্রদায়ের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে আমাদের ওপর বর্তায়। এই দায়িত্ব পালনে অবিচল ও সদা তৎপর থাকতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। মুক্তির পথ রচনার এই নিরন্তর ও একনিষ্ঠ কর্মতৎপরতার মাধ্যমে উদীচী সেই সমাজ গঠনের নিশ্চিত পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে; যে সমাজে সুষ্ঠু মানবতাবাদী সুকুমার বৃত্তিগুলোর হবে পরিপূর্ণ বিকাশ; আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধররা সেখানে বেড়ে উঠবে এক পরিপূর্ণ মানবিক গুণাবলি ও অধিকারসম্পন্ন মানুষ হিসেবে। সেখানে আমরা দেখব আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির সৃষ্টিশীল নবজাগরণ।

গঠনতন্ত্র

অনুচ্ছেদ-১: সংগঠন
১. নাম
এই সংগঠন ‘বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’, সংক্ষেপে ‘উদীচী’ নামে পরিচিত হবে।

২. বৈশিষ্ট্য
এটি একটি অসা¤প্রদায়িক, প্রগতিকামী, স্বেচ্ছাসেবী জাতীয় গণ-সাংস্কৃতিক সংগঠন।

৩. কার্যালয়
উদীচীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত থাকবে।

৪. প্রতীক
সংগঠনের আদর্শ, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সংগঠনের প্রতীক রচিত। এই প্রতীকে সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশের নিয়ামক শক্তি শ্রমের সঙ্গে সংস্কৃতির সেতুবন্ধনের রূপকে তুলে ধরা হয়েছে (প্রচ্ছদে মুদ্রিত)।

৫. পতাকা
সংগঠনের পতাকা হবে নিম্নরূপ
দৈর্ঘ্য : প্রস্থ = ৩ : ২। দৈর্ঘ্য বরাবর প্রস্থের নিচের ৩/৮ অংশ গাঢ় লাল। উপরের ৫/৮ অংশ সাদা। সাদা অংশের মাঝামাঝি এবং নিচের লাল অংশ সংলগ্ন থাকবে পতাকার প্রস্থের অর্ধেক ব্যাস বিশিষ্ট একটি লাল গোলাকার বৃত্ত অর্থাৎ দৈর্ঘ্য : প্রস্থ : প্রস্থের সাদা অংশ : প্রস্থের লাল অংশ : বৃত্তের ব্যাস = ১২ : ৮ : ৫ : ৩ : ৪ (প্রচ্ছদে মুদ্রিত)।

অনুচ্ছেদ-২: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
৬. স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে অবাধ আত্মবিকাশ, ভাব ও সংস্কৃতির আদান প্রদানের নিশ্চয়তা বিধান এবং স্বাধীনতাকে জনজীবনে ফলপ্রসূ করে তোলার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করা উদীচীর লক্ষ্য।
৭. উদীচী স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে নিয়োজিত থাকতে একইসঙ্গে যুগযুগের সাম্রাজ্যবাদী সংকীর্ণ, বিকৃত এবং অপসংস্কৃতির পরিবর্তে জাতীয় সংস্কৃতির সঠিক বিকাশের অনুক‚ল পরিবেশ সৃষ্টিতে বদ্ধপরিকর।
৮. সমাজে মেহনতি মানুষের মুক্তিতে যেহেতু সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সার্বিক মুক্তি নিহিত, সেহেতু মেহনতি মানুষের সার্বিক মুক্তির চেতনাকে লক্ষ্যের ভেতরে রেখে উদীচী তার সকল কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
৯. উদীচী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সমন্বয় সাধন ও এর পুনরুজ্জীবনে সচেষ্ট থাকবে।
১০. উদীচী বিশ্বের যেকোনো দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সেই ধারার অনুসারী, যে ধারা জীবনমুখী এবং সমাজ ও মানুষের প্রকৃত কল্যাণ-অভিসারী।
১১. উদীচী চায় জাতীয় স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশের সকল মানুষের অসাম্প্রদায়িক জাতীয় ঐক্য। উদীচী যে জাতীয়তাবাদের অনুসারী সে জাতীয়তাবাদ সংকীর্ণ জাত্যাভিমানের পঙ্কিলাবর্তে নিক্ষিপ্ত নয়।
১২. উদীচী চায় ধর্ম, বর্ণ, স¤প্রদায় ও জাতিসত্তা নির্বিশেষে সারা দেশবাসীর মধ্যে নিবিড় ভ্রাতৃত্ববোধের সম্পর্ক।
১৩. যেহেতু যুদ্ধ বিশ্বমানব, মানবতা, সভ্যতা ও সংস্কৃতির দুশমন, সেহেতু উদীচী যুদ্ধের বিরুদ্ধে ও বিশ্বশান্তির পক্ষে তার সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড সংগঠনে সর্বোতভাবে তৎপর থাকবে।
১৪. দেশের সকল প্রথিতযশা ও সম্ভাবনাময় শিল্পী সাহিত্যিক নাট্যকার ও কবির সৃজনশীল কর্মপ্রয়াসকে সুখী সুন্দর সমাজ বিকাশের স্বার্থে উদীচীর কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করা উদীচীর আদর্শ-উদ্দেশ্যের অঙ্গীভূত।
১৫. নিরক্ষরতা সমাজ বিকাশের পথে অন্যতম প্রধান অন্তরায়। নিরক্ষরতা দূরীকরণ ব্যতীত যেমন কোনো সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পূর্ণতা কল্পনা করা যায় না, তেমনি সাক্ষরতা ব্যতীত সভ্য জাতির বিকাশও কল্পনা করা যায় না। সমাজজীবন থেকে নিরক্ষরতার বিলুপ্তি সাধন তাই উদীচীর সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
১৬. আমাদের দেশের যুগপ্রাচীন ঐতিহ্যসম্পৃক্ত সংস্কৃতির প্রায় বিলীয়মান বিভিন্ন রূপের (যেমন কবিগান, যাত্রা, বাউল, জারি-সারি ইত্যাদি) আবহমানকালের উৎসব অনুষ্ঠানের (যেমন নৌকাবাইচ, নবান্ন উৎসব, বৈশাখী মেলা, পৌষ সংক্রান্তির মেলা, শীতের পিঠা, মাছ ধরার উৎসব, জাতিসত্তাসমূহের বিভিন্ন উৎসব ইত্যাদি) দেশীয় বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের (যেমন বাঁশি, সানাই, খঞ্জনি, একতারা, ঢাক, ঢোল, খোল, করতাল, দোতরা ইত্যাদি) পুনরুজ্জীবন ঘটানো, এগুলোকে কালোপযোগী করা এবং এসবের ব্যাপক প্রচলন ঘটানো উদীচীর অন্যতম লক্ষ্য।
১৭. দেশের প্রকৃত সাংস্কৃতিক ধারাকে উদীচী বিশ্বের দরবারে সগৌরবে তুলে ধরার জন্য নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাবে। শুধু নগরীর চৌহদ্দির ভেতরেই নয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উদীচীর উদ্যোগে নাটক, নৃত্য, বিচিত্রানুষ্ঠান ইত্যাদি এবং সে সঙ্গে চিত্র প্রদর্শনী, সংগীতের আসর, সভা-সেমিনার, আলোচনাসভা অনুষ্ঠান ও পত্রপত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করবে উদীচী।
১৮. আমাদের এ ভূখন্ডে বসবাসরত বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতিকে লালন, বিকাশ ও সমৃদ্ধ করার জন্য উদীচী তার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করছে।
১৯. উদীচী বাংলাদেশের সকল শিল্পীর উপযুক্ত সামাজিক ও আর্থনীতিক মর্যাদা অর্জনে এবং তাদের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত স্বার্থ সংরক্ষণে উদ্যোগী হবে।
২০. উদীচী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাধারণ লক্ষ্য অর্জনের স্বার্থে প্রয়োজনানুসারে দেশের অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠন/প্রতিষ্ঠানের সাথে ভাবের আদান প্রদান এবং সহযোগিতামূলক তৎপরতা চালিয়ে যাবে।
২১. উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী দেশের সকল শিল্পীর পেশাগত অসুবিধাসমূহ ও তাদের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশের পথে যেসব অন্তরায় বিদ্যমান সেসব দূরীকরণে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
২২. উদীচী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংগীত, নাটক, নৃত্য, চারু-কারুকলা শিক্ষার বিদ্যালয় গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
২৩. উদীচী তার সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের একদিকে যেমন লোকসংস্কৃতির জীবনমুখী ধারাকে প্রাধান্য দেবে, তেমনি আমাদের ঐতিহ্যের অঙ্গীভূত সঠিক সংস্কৃতিধারার জীবনবাদী অনুসৃতি ও নবায়ন ঘটাবে।
২৪. সমাজজীবনকে বিপথগামী ও কলুষিত করতে পারে দেশে এ জাতীয় অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে উদীচী দৃঢ় পদক্ষেপে গ্রহণ করবে।
২৫. সবচেয়ে শক্তিশালী গণমাধ্যম চলচ্চিত্র শিল্পকে অর্থলোভী ব্যবসায়ীদের হাত থেকে মুক্ত করা ও চলচ্চিত্রে আমাদের সমাজবাস্তবতার যথার্থ প্রতিফলন ঘটিয়ে সুখী সমাজ গঠনে এর ভ‚মিকাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য উদীচী জনমত গঠনে প্রচেষ্টা গ্রহণ করবে।
২৬. বাংলাদেশের সকল জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করা উদীচীর কর্মসূচির অঙ্গীভূত। এছাড়াও উদীচী তার ঘোষণাপত্র ও লক্ষ্য উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ আন্তর্জাতিক দিবসসমূহ সাধ্যানুযায়ী পালন করবে।
২৭. দেশের যেকোনো দুর্যোগ উদীচী তার সাধ্যানুযায়ী মোকাবিলা করবে।
২৮. উদীচী তার সকল কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশ ও জাতির আশা-আকাঙ্খাকে যথাযথভাবে তুলে ধরবে এবং দেশ ও জাতিকে এক সুখী সুন্দর সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করবে।
২৯. আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে স্যাটেলাইট সংস্কৃতির প্রবল প্রভাবে আচ্ছন্ন বাঙালি সংস্কৃতি। কুরুচিপূর্ণ অসুস্থ বিনোদনের এই সর্বগ্রাসী প্রভাব রোধ করে সুস্থ-সংস্কৃতির ধারা সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতির বিকাশ সাধনের জন্য উদীচী সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলবে।

অনুচ্ছেদ-৩: সদস্যপদ
৩০. ধর্ম, বর্ণ, দল, মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং উদীচীর ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাসী, অসা¤প্রদায়িক চেতনাসম্পন্ন বাংলাদেশের যেকোনো অঞ্চলের (বিদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়) ১২ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়স্ক যেকোনো ব্যক্তি সদস্যপদ লাভের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
৩১. প্রত্যেক সদস্যের সর্বনিম্ন মাসিক চাঁদার পরিমাণ ৫.০০ টাকা যা প্রতিমাসে নিয়মিত পরিশোধযোগ্য।
৩২. সদস্য পদপ্রার্থীকে ১০.০০ টাকা ভর্তি ফি এবং সেই মাসের চাঁদাসহ সংশ্লিষ্ট শাখা/জেলা সংসদ-এর সভাপতি বরাবরে নির্ধারিত আবেদনপত্রে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রে প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে শাখা/জেলা কার্যনির্বাহী পরিষদের ২ জন সদস্যের স্বাক্ষর থাকতে হবে।
৩৩. শাখাসমূহ যেকোনো প্রার্থীকে সদস্যপদ প্রদান করতে পারে, তবে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জেলা সংসদে পেশ করতে হবে। জেলা সংসদ যেকোনো সদস্য পদপ্রার্থীর আবেদন গ্রহণ বা অগ্রাহ্য করতে পারে। কোনো শাখা বা জেলা সংসদের প্রাথমিক সদস্যপদ নিয়ে সমস্যার উদ্ভব হলে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে কেন্দ্রীয় সংসদ। প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে সদস্যপদ নবায়ন করতে হবে।
৩৪. সাধারণ সদস্যপদ ত্যাগ করার অধিকার সকল সদস্যের থাকবে। পদত্যাগে ইচ্ছুক সদস্যকে অন্ততপক্ষে একমাসের নোটিশে পদত্যাগের কারণ বর্ণনাসহ সভাপতি বরাবরে সাধারণ সম্পাদকের নিকট পদত্যাগপত্র দাখিল করতে হবে। নোটিশ প্রাপ্তির একমাসের মধ্যে পদত্যাগের আবেদন বিবেচনা করতে হবে।
৩৫. জেলা সংসদ তার সাধারণ অথবা জরুরি অধিবেশনে পদত্যাগপত্র বিবেচনার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। জরুরি প্রয়োজনবোধে স্ব-স্ব শাখা কমিটি যেকোনো সদস্যের পদত্যাগপত্র অস্থায়ীভাবে গ্রহণ অথবা নাকচ করতে পারবে।
অনুচ্ছেদ-৪: গঠন পদ্ধতি
৩৬. উদীচীর গঠন পদ্ধতি নিম্নরূপ হবে
৩৬.১. জাতীয় সম্মেলন
৩৬.২. জাতীয় পরিষদ
৩৬.৩. কেন্দ্রীয় সংসদ
৩৬.৪. জেলা সংসদ
৩৬.৫. শাখা সংসদ

৩৭. জাতীয় সম্মেলন

৩৭.১. গঠন
৩৭.১.১. প্রতি দুই বছর পর জেলা ও শাখা সংসদসমূহের নির্বাচিত এবং কেন্দ্রীয় সংসদ কর্তৃক নির্ধারিত সংখ্যক সম্মেলন-প্রতিনিধি নিয়ে উদীচীর জাতীয় সম্মেলন গঠিত হবে। কেন্দ্রীয় সংসদ কর্তৃক নির্ধারিত সম্মেলনের তারিখের পূর্বেই এই প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে।
৩৭.১.২. উপর্যুক্ত প্রতিনিধিগণ উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনের উদ্দেশ্যে আহূত নির্বাচনি সভার প্রথম অধিবেশনে উদীচীর যেকোনো অথবা বিভিন্ন শাখা থেকে অনধিক ১০ জন সদস্য কো-অপ্ট করে সম্মেলনে প্রতিনিধিভুক্ত করতে পারবেন।
৩৭.১.৩. অধিবেশনে যোগদান করতে হলে নির্বাচিত এবং কো-অপ্ট করা সম্মেলনের সদস্যদের প্রত্যেককে কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ চাঁদা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রদান করতে হবে।
৩৭.১.৪. এক-তৃতীয়াংশ সম্মেলন-প্রতিনিধির উপস্থিতি কোরাম হিসেবে গণ্য হবে।
৩৭.১.৫. জাতীয় পরিষদ ও কেন্দ্রীয় সংসদ সদস্যদের সবাই জাতীয় সম্মেলন প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হবেন।
৩৭.১.৬. কেন্দ্রীয় সংসদ শাখাসমূহের জন্য সম্মেলন পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও নির্ধারণ করবে। পর্যবেক্ষকবৃন্দ সম্মেলনের প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত থাকতে পারবেন, তবে ভোট দিতে পারবেন না।
৩৭.১.৭. শাখা সম্মেলনে জেলা কমিটির প্রতিনিধি এবং জেলা সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।
৩৭.২. কার্যাবলি
৩৭.২.১. জাতীয় সম্মেলন পরবর্তী দুই বছরের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদের সদস্যদের নির্বাচিত করবে।
৩৭.২.২. জাতীয় সম্মেলন গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৪ ধারা ৩৮-এ বর্ণিত জাতীয় পরিষদের গঠন অনুমোদন করবে।
৩৭.২.৩. জাতীয় সম্মেলন জাতীয় পরিষদের জন্য নির্বাচিত কোনো শাখার প্রতিনিধি সম্বন্ধে আপত্তি প্রকাশ করলে উক্ত প্রতিনিধির সদস্যপদ বাতিল বলে বিবেচিত হবে।
৩৭.২.৪. জাতীয় সম্মেলন সংগঠনের চূড়ান্ত নীতিনির্ধারক সংস্থা এবং সংগঠনের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র সংশোধন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের অধিকারী।
৩৭.২.৫. একটি জাতীয় সম্মেলনে উপস্থিত সকল সম্মেলন-প্রতিনিধি (কাউন্সিলর) তার শাখার সাধারণ সদস্যপদ বহাল থাকলে পরবর্তী জাতীয় সম্মেলনের সম্মেলন-প্রতিনিধি নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত সম্মেলন-সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন।

৩৭.৩. তলবী সভা
৩৭.৩.১. জাতীয় সম্মেলনের এক তৃতীয়াংশ সদস্য তলবীপত্র প্রদান করলে জাতীয় সম্মেলন বসবে।
৩৭.৩.২. লিখিত তলবীপত্র পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সভাপতির নির্দেশে সাধারণ সম্পাদক জাতীয় সম্মেলন আহ্বান করতে বাধ্য থাকবেন। অন্যথায় তবলীপত্র প্রদানকারী সদস্যগণ ২১ দিনের নোটিশে জাতীয় সম্মেলন আহ্বান করতে পারবেন।
৩৭.৩.৩.দুই-তৃতীয়াংশ সম্মেলন-প্রতিনিধির উপস্থিতি তলবী সভার কোরাম হিসেবে গণ্য হবে।
৩৭.৩.৪. উপস্থিত সদস্যসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে তলবী সভার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে।
৩৭.৩.৫. তলবী সভা অবশ্যই সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে।

৩৭.৪. বিষয় নির্বাচনি কমিটি
পূর্বতন কেন্দ্রীয় সংসদ জাতীয় সম্মেলনের অনুমোদন সাপেক্ষে বিষয় নির্বাচনি কমিটি গঠন করবে। এই কমিটি বিভিন্ন প্রস্তাবের খসড়া ও নতুন কমিটির খসড়া প্রস্তাব নির্বাচনি অধিবেশনে উপস্থাপন করবে।

৩৮. জাতীয় পরিষদ

৩৮.১. গঠন
৩৮.১.১. কেন্দ্রীয় সংসদের সকল সদস্য এবং প্রতিটি জেলা সংসদ ও শাখার একজন প্রতিনিধি জাতীয় পরিষদের সদস্য বলে বিবেচিত হবেন।
৩৮.১.২. জেলা ও শাখার জাতীয় পরিষদ সদস্য সংশ্লিষ্ট জেলা ও শাখার সম্মেলনে নির্বাচিত হবেন।
৩৮.১.৩. জাতীয় পরিষদ জাতীয় সম্মেলনের সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা বাস্তবায়ন করে বলে সরাসরি জাতীয় সম্মেলনের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।

৩৮.২. কার্যাবলি
৩৮.২.১. জাতীয় সম্মেলনের দুই অধিবেশনের মধ্যবর্তী সময়ে জাতীয় পরিষদই নীতি নির্ধারণের ক্ষমতার অধিকারী বলে বিবেচিত হবে।
৩৮.২.২. জাতীয় পরিষদ জাতীয় সম্মেলনে প্রণীত নীতিমালা ও গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের তত্ত¡াবধায়ক হিসেবে কাজ করবে।
৩৮.২.৩. জাতীয় পরিষদ প্রতি বছর অন্ততপক্ষে একবার বৈঠকে মিলিত হবে।
৩৮.২.৪. জাতীয় পরিষদের মোট সদস্যের এক পঞ্চমাংশের উপস্থিতি কোরাম হিসেবে গণ্য হবে।
৩৮.২.৫. সংগঠনের স্বার্থ ও সুনামের পরিপন্থী কোনো প্রকার কার্যে লিপ্ত থাকার কোনো অভিযোগ জাতীয় পরিষদের কোনো সদস্য অথবা কেন্দ্রীয় সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে উত্থাপিত হলে পরিষদ যথাবিহিত তদন্তপূর্বক যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার অধিকারী হবে।
৩৮.২.৬. উদীচীর কেন্দ্রীয়/জেলা/শাখা সংসদের বিরুদ্ধে সংগঠনের আদর্শ ও নীতিমালা থেকে বিচ্যুতির কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে জাতীয় পরিষদ যথাবিহিত তদন্তপূর্বক দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অভিযুক্ত সংসদ সম্পর্কে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।
৩৮.২.৭. কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্তক্রমে ২১ দিনের নোটিশে জাতীয় পরিষদের সভা ও ১০ দিনের নোটিশে জাতীয় পরিষদের জরুরি সভা আহ্বান করা যাবে।
৩৯. কেন্দ্রীয় সংসদ

৩৯.১. গঠন
কেন্দ্রীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যা হবে ৯১ জন।
কেন্দ্রীয় সংসদের গঠন নিম্নরূপ
সভাপতি ১ জন
সহ-সভাপতি ১৭ জন
সাধারণ সম্পাদক ১ জন
সহ-সাধারণ সম্পাদক ৩ জন
কোষাধ্যক্ষ ১ জন
সম্পাদক ১০ জন
সদস্য ৫৮ জন
মোট ৯১ জন

৩৯.২. কার্যাবলি
৩৯.২.১. সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত থাকবে।
৩৯.২.২. কেন্দ্রীয় সংসদ জাতীয় সম্মেলন ও জাতীয় পরিষদের গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন করবে।
৩৯.২.৩. কেন্দ্রীয় সংসদ তার সকল কাজকর্মের জন্য জাতীয় সম্মেলনের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।
৩৯.২.৪. কেন্দ্রীয় সংসদ সংগঠনের যাবতীয় হিসাব-নিকাশের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংগঠনের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির তত্ত্বাবধান করবে।
৩৯.২.৫. কেন্দ্রীয় সংসদ প্রতি ৩ মাসে অন্ততপক্ষে একবার বৈঠকে মিলিত হবে।
৩৯.২.৬. ১৫ দিনের নোটিশে কেন্দ্রীয় সংসদের সভা এবং ৭২ ঘণ্টার নোটিশে কেন্দ্রীয় সংসদের জরুরি সভা আহ্বান করা যাবে।
৩৯.২.৭. কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সংসদের সম্পাদকমন্ডলী কেন্দ্রীয় সংসদের পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ সভার অনুমোদন সাপেক্ষে ৬ ঘণ্টার নোটিশে কোনো বিবেচ্য বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণ অথবা প্রচার কাজ চালাতে পারবে।
৩৯.২.৮. কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলী মাসে কমপক্ষে একবার বৈঠকে মিলিত হবে।
৩৯.২.৯. কেন্দ্রীয় সংসদের সম্পাদকমণ্ডলী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও সম্পাদকবৃন্দ নিয়ে গঠিত হবে এবং কেন্দ্রীয় সংসদের দুই সভার অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং তা বাস্তবায়ন করবে। উক্ত সম্পাদকমণ্ডলী তাদের অন্তর্বর্তীকালীন কাজের জন্য কেন্দ্রীয় সংসদের পরবর্তী সভার কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।
৩৯.২.১০. কেন্দ্রীয় সংসদ কেন্দ্রীয় সম্পাদকের উপযুক্ততা বিচারের মাধ্যমে সংগঠনের বিভিন্ন বিভাগের কাজের দায়িত্ব বণ্টন করবে।
৩৯.২.১১. কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে, স্থায়ীভাবে বা দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশের বাইরে গেলে অথবা সংগঠনের দৈনন্দিন কাজকর্মে বিনা নোটিশে দীর্ঘদিন অংশগ্রহণ না-করলে অথবা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে, ওই সদস্যের স্থান শূন্য বলে গণ্য হবে এবং কেন্দ্রীয় সংসদ উক্ত শূন্যপদে কেন্দ্রীয় সংসদের যেকোনো উপযুক্ত সদস্যকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ করতে পারবে।
৩৯.২.১২. কার্যকরী পরিষদের কোনো সদস্য কোনো উপযুক্ত কারণ ব্যতিরেকে পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট শাখা জেলা সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে, জেলা সংসদ কেন্দ্রীয় সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং কেন্দ্রীয় সংসদ জাতীয় পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে তার পদ শূন্য ঘোষণা করতে পারবে এবং শূন্য পদে নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
৩৯.২.১৩. অন্য কোনো সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যেকোনো বিষয়ে সহযোগিতার প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সংসদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।
৩৯.২.১৪. এতদব্যতীত সংগঠনের স্বার্থে ও জাতীয় পরিষদের পরবর্তী সভার অনুমোদন সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় সংসদ যেকোনো সময়ে যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার অধিকারী হবে।
৩৯.২.১৫. কেন্দ্রীয় সভার এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতি কোরাম হিসেবে গণ্য হবে।
৩৯.২.১৬. কেন্দ্রীয় সংসদের কোনো সদস্য পদত্যাগ করতে চাইলে ১ মাসের নোটিশে পদত্যাগের কারণ দর্শানোসহ সভাপতি বরাবর সাধারণ সম্পাদকের কাছে সাদা কাগজে পদত্যাগপত্র দাখিল করবেন। কেন্দ্রীয় সংসদ জাতীয় পরিষদের পরবর্তী অধিবেশনের অনুমোদন সাপেক্ষে এ সম্পর্কে সাময়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।
৩৯.২.১৭. কেন্দ্রীয় সংসদের যেকোনো সিদ্ধান্ত সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হবে।
৩৯.২.১৮. কেন্দ্রীয় সংসদ প্রয়োজনবোধে জাতীয় পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রাথমিক সদস্যপদ প্রদান ও বাতিল করতে পারবে।
৩৯.২.১৯. কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পরপর দুই বারের বেশি একই পদে নির্বাচিত হতে পারবেন না।

৪০. জেলা সংসদ

৪০.১. গঠন
সকল প্রশাসনিক জেলাসমূহে জেলার অন্তর্গত প্রতিটি শাখা থেকে অন্তত ১ জন প্রতিনিধি নিয়ে জেলা সংসদ গঠিত হবে। ঢাকা মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে সাংগঠনিক জেলার মর্যাদা দেওয়া হবে ।
জেলা সংসদের গঠন নিম্নরূপ
সভাপতি ১ জন
সহ-সভাপতি ৩ – ৯ জন
সাধারণ সম্পাদক ১ জন
সহ-সাধারণ সম্পাদক ১ – ৩ জন
কোষাধ্যক্ষ ১ জন
সম্পাদক ৪ – ১০ জন
সদস্য ৮ – ২২ জন
মোট ১৯ – ৪৭ জন

৪০.২. প্রতিটি রাষ্ট্রে একটি শাখাকে সাংগঠনিক জেলার মর্যাদা দেয়া হবে।

৪১. শাখা সংসদ

৪১.১. গঠন
৪১.১.১. স্থানীয় প্রয়োজনানুযায়ী অনূর্ধ্ব ২৫ জন সদস্য নিয়ে শাখা কমিটি গঠিত হবে।
শাখা সংসদের গঠন নিম্নরূপ
সভাপতি ১ জন
সহ-সভাপতি ২ – ৫ জন
সাধারণ সম্পাদক ১ জন
সহ-সাধারণ সম্পাদক ১ – ২ জন
কোষাধ্যক্ষ ১ জন
সম্পাদক ৪ – ৬ জন
সদস্য ৫ – ৯ জন
মোট ১৫ – ২৫ জন
৪১.১.২. পূর্ণাঙ্গ শাখা কমিটি গঠনের ছয় মাস আগে একজনকে আহ্বায়ক ও অনূর্ধ্ব দুইজনকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে হবে। নতুন শাখা গঠন এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময় জেলা সংসদের অনুমোদন নিতে হবে।

৪২. জেলা ও শাখার কার্যাবলি
৪২.১. জেলা সংসদ ও শাখাসমূহ জাতীয় পরিষদের গৃহীত সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা অনুযায়ী তাদের কর্মতৎপরতা পরিচালনা করবে।
৪২.২. জেলা সংসদ ও শাখাসমূহ কেন্দ্রীয় সংসদ কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশাবলি যথাযথভাবে পালনে বাধ্য থাকবে। শাখাসমূহ জেলা সংসদের নির্দেশ ও সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে পালন করবে।
৪২.৩. জেলা সংসদ ও শাখার যেকোনো সভায় কমিটির এক তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতি কোরাম হিসেবে গণ্য হবে।
৪২.৪. জেলা সংসদ ও শাখাসমূহ বছরে কমপক্ষে একবার সাধারণ সভার আয়োজন করবে।
৪২.৫. কোনো শাখা প্রয়োজনবোধে জেলা সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে ও জেলা সংসদ কেন্দ্রীয় সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে যেকোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
৪২.৬. কেন্দ্রীয় সংসদের কার্যাবলির ৩৯.২.৮, ৩৯.২.৯, ৩৯.২.১০, ৩৯.২.১১, ৩৯.২.১২ ও ৩৯.২.১৭ নং ধারাসমূহ জেলা ও শাখাসমূহের ক্ষে ত্রেও অনুরূপভাবে প্রযোজ্য হবে।
৪২.৭. উদীচীর আদর্শ ও উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ সংগঠনসমূহের সঙ্গে জেলা ও শাখা সহযোগিতার ভিত্তিতে কার্যক্রম চালাতে পারবে।
৪২.৮. ৭ দিনের নোটিশে জেলা সংসদের সভা, ৩ দিনের নোটিশে শাখা সংসদের সভা, ৪৮ ঘণ্টার নোটিশে জেলা সংসদ ও ২৪ ঘণ্টার নোটিশে শাখা সংসদের জরুরি সভা আহ্বান করা যাবে এবং জেলা ও শাখা সংসদের সম্পাদকমণ্ডলীর জরুরি সভা ৬ ঘণ্টার নোটিশে আহ্বান করা যাবে। সম্পাদকমন্ডলীর সভার সিদ্ধান্ত পরবর্তী জেলা ও শাখা সংসদের কার্যকরী পরিষদের পূর্ণাঙ্গ সভায় অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।
৪২.৯. জেলা সংসদ ও শাখার কার্যকরী পরিষদ দুইমাসে কমপক্ষে একবার সভায় মিলিত হবে।

৪৩. কেন্দ্রীয়, জেলা ও শাখা সংসদের বিভিন্ন সংগঠকের দায়িত্ব

৪৩.১. সভাপতি
৪৩.১.১. সভাপতি সংগঠনের প্রধান হিসাবে গণ্য হবেন।
৪৩.১.২. তিনি পদাধিকারবলে সংগঠনের সকল সভায় সভাপতিত্ব করবেন। সকল পরিষদের এবং উপ-পরিষদের অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
৪৩.১.৩. সাধারণভাবে তিনি ভোটদানের অধিকারী নন, তবে অচলাবস্থা নিরসনের জন্য তিনি নির্ধারণি ভোট দিতে পারবেন।
৪৩.১.৪. কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি’ জাতীয় পরিষদ সভা আহ্বান করবেন।
৪৩.১.৫. তিনি সংগঠনের গঠনতন্ত্রের প্রতিটি ধারার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করবেন।
৪৩.১.৬. তিনি সংসদের সভা আহ্বানের জন্য সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেবেন। সাধারণ সম্পাদক সভা আহ্বান না করলে তিনি স্বয়ং সভা আহ্বান করতে পারবেন।
৪৩.১.৭. কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি’ জাতীয় সম্মেলনের অনুমোদন সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন।
৪৩.১.৮. এছাড়াও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে সকল দায়িত্ব তার ওপর বর্তায় তিনি তা পালন করবেন।

৪৩.২. সহ-সভাপতি
৪৩.২.১. তিনি সভাপতির সকল কাজে সহায়তা করবেন।
৪৩.২.২. সভাপতির অনুপস্থিতে সহ-সভাপতি (ক্রমিক অনুসারে) সভাপতির দায়িত্ব ও ক্ষমতার অধিকারী হবেন।
৪৩.২.৩. এছাড়াও তিনি তার ওপর অর্পিত অন্যান্য দায়িত্বসমূহ পালন করবেন।

৪৩.৩. সাধারণ সম্পাদক
৪৩.৩.১. সাধারণ সম্পাদক সংগঠনের প্রধান নির্বাহী ।
৪৩.৩.২. তিনি সভাপতির পরামর্শক্রমে কেন্দ্রীয়/জেলা/শাখা সংসদের সভা আহ্বান করবেন।
৪৩.৩.৩. তিনি সংগঠনের দৈনন্দিন ‘কার্যাবলির জন্য দায়বদ্ধ থাকবেন।
৪৩.৩.৪. কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জাতীয় পরিষদ ও কেন্দ্রীয় সংসদ সভায়, জেলা সংসদ ও শাখা সংসদের সাধারণ সম্পাদক স্ব-স্ব সংসদের সভায় সংগঠনের কার্যাবলি সম্বন্ধে প্রতিবেদন পেশ করবেন।
৪৩.৩.৫. তিনি প্রয়োজনবোধে অন্যান্য সংগঠক বা সম্পাদকের ওপর বিভিন্ন দায়িত্ব বণ্টন করবেন। তিনি সংগঠকদের কাজের মধ্যে সংযোগ ও সমন্বয় সাধন করবেন।
৪৩.৩.৬. তিনি পদাধিকার বলে সকল উপ-পরিষদের সদস্য থাকবেন এবং জরুরি প্রয়োজনে উপ-পরিষদসমূহের সভা আহ্বান করবেন।
৪৩.৩.৭. এই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অর্পিত যে সকল দায়িত্ব তার ওপর বর্তায় তিনি তা পালন করবেন।
৪৩.৩.৮. কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জাতীয় সম্মেলনের অনুমোদন সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় সংসদের নিকট দায়বদ্ধ থাকবেন।

৪৩.৪. সহ-সাধারণ সম্পাদক
৪৩.৪.১. তিনি সাধারণ সম্পাদকের সকল কাজে সহায়তা করবেন।
৪৩.৪.২. সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে তিনি (ক্রমিক অনুসারে) সাধারণ সম্পাদকের সকল দায়িত্ব ও ক্ষমতার অধিকারী হবেন।
৪৩.৪.৩. এছাড়াও তিনি তার ওপর অর্পিত অন্যান্য দায়িত্বসমূহ পালন করবেন।

৪৩.৫. কোষাধ্যক্ষ
৪৩.৫.১. সংগঠনের যাবতীয় অর্থ তার মারফত দেশের যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে জমা থাকবে।
৪৩.৫.২. তিনি সংগঠনের যাবতীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ ও প্রদান করবেন।
৪৩.৫.৩. সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষে র মধ্যে কোষাধ্যক্ষ এবং অন্য যেকোনো একজনের যুক্ত স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা উঠানো যাবে।
৪৩.৫.৪. তিনি তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা করবেন এবং বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবেন।
৪৩.৫.৫. বিভিন্ন বিভাগের আয়-ব্যয়ের সমš^য় সাধন করবেন।

৪৩.৬. সম্পাদক
৪৩.৬.১. তিনি তার ওপর অর্পিত বিভাগীয় দায়িত্ব পালন করবেন।
৪৩.৬.২. তিনি তার বিভাগের কাজের সুবিধার্থে কার্যকরী সংসদের সদস্যদের কাছ থেকে সাহায্য নেবেন।
৪৩.৬.৩. তিনি তার বিভাগের কাজের জন্য কার্যকরী সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন।

৪৩.৭: সদস্য
৪৩.৭.১. কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব পালনে তিনি সচেষ্ট থাকবেন।
৪৩.৭.২. তিনি তার কাজের জন্য কার্যকরী পরিষদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন।

অনুচ্ছেদ-৫: উপদেষ্টামন্ডলী গঠন
কেন্দ্রীয় সংসদ, জেলা সংসদ ও শাখাসমূহ প্রয়োজনবোধে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করতে পারবে।

অনুচ্ছেদ-৬: তহবিল সংগ্রহ ও হিসাব পদ্ধতি

৪৪. তহবিল সংগ্রহ
সংসদের কার্যাবলির ব্যয় নির্বাহের জন্য নিম্নলিখিত উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করা হবে
৪৪.১. প্রাথমিক সদস্যদের ভর্তি ফি, সদস্যদের নবায়ন ফি ও সদস্যদের বার্ষিক চাঁদা।
৪৪.২. দান, অনুদান, মঞ্জুরি, বিভিন্ন আর্থিক সাহায্য ও বিবিধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে আয়।
৪৪.৩. প্রতিটি জেলা ও শাখার প্রাথমিক সদস্যের চাঁদার এক-চতুর্থাংশ কেন্দ্রীয় সংসদে প্রেরণ করতে হবে।
৪৪.৪. যেকোনো দান, অনুদান, চাঁদা, আর্থিক সাহায্য নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।
৪৪.৫. সংগীত, চারুকলা বিদ্যালয়সহ উদীচী পরিচালিত যেকেনো বিদ্যালয়/প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় উদীচীর আয়-ব্যয় হিসেবে গণ্য হবে।

৪৫. হিসাব পদ্ধতি
৪৫.১. কেন্দ্রীয় সংসদ, জেলা সংসদ ও শাখাসমূহের সকল প্রকার আর্থিক লেনদেন অবশ্যই দেশের কোনো তফসিলি ব্যাংকে সংগঠনের নামে রক্ষিত হিসাবের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
৪৫.২. ব্যাংক হিসাব সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষে র স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদকের যেকোনো একজন এবং কোষাধ্যক্ষ এই দুইজনের যুক্ত স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা উঠানো যাবে।
৪৫.৩. নৈমিত্তিক ও জরুরি খরচ ব্যতীত সকল লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হবে।
৪৫.৪. যেকোনো জরুরি খরচ অবশ্যই সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের যেকোনো একজন এবং কোষাধ্যক্ষ এই দুইজনের পূর্বানুমতিতে হতে হবে এবং পরবর্তীকালে কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় তা অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।
৪৫.৫. নৈমিত্তিক খরচ সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা ও জরুরি খরচ সর্বোচ্চ ৩০০০ টাকা। মোট ৪০০০ টাকা কোষাধ্যক্ষ নগদ সংরক্ষণ করতে পারবেন।
৪৫.৬. সকল সম্পাদকীয় বিভাগের পুঙ্ক্ষানুপুঙ্ক্ষ হিসাব সংশ্লিষ্ট সম্পাদক রক্ষা করবেন এবং প্রতি সপ্তাহে তা কোষাধ্যক্ষে র কাছে পেশ করবেন।
৪৫.৭. কোনো অনুষ্ঠানের আর্থিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অনুষ্ঠান সমাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠানের পুঙ্ক্ষানুপুঙ্ক্ষ হিসাব কোষাধ্যক্ষে র কাছে অবশ্যই পেশ করবেন।
৪৫.৮. সমস্ত খরচ ভাউচারের মাধ্যমে হতে হবে।
৪৫.৯. হিসাবর রক্ষণ দেশের স্বীকৃত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।
৪৫.১০. আর্থিক হিসাব-নিকাশ যথাযথভাবে সম্পাদন বা পেশ করার ক্ষেত্রে শৈথিল্য গুরুতর সাংগঠনিক অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হবে।
৪৫.১১. কার্যনির্বাহী কমিটি কর্তৃক মনোনীত অভ্যন্তরীণ হিসাব পরীক্ষা উপ-কমিটি বছরে একবার সংগঠনের বার্ষিক হিসাব নিরীক্ষা করবে। হিসাবের বিশদ বিবরণ ও তার সাথে হিসাব পরীক্ষা উপ-কমিটির প্রতিবেদন সভার আলোচ্যসূচির সাথে কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে।
৪৫.১২. নিরীক্ষিত হিসাব অর্থ বছরের শেষে জুলাই মাসের মধ্যে পেশ করার জন্য তৈরি থাকতে হবে।
৪৫.১৩. কেন্দ্রীয়, জেলা ও শাখা সম্মেলনে আয়-ব্যয়ের বিবরণী এবং নিরীক্ষা বিবৃতি সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদনের সাথে উপস্থাপন করতে হবে।

অনুচ্ছেদ-৭: শৃঙ্খলা ও বহিষ্কার

৪৬. শৃঙ্খলা
৪৬.১. সংগঠনের ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র ও সংগঠন বিরোধী যেকোনো কাজ সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ বলে গণ্য হবে।
৪৬.২. উপযুক্ত তদন্তপূর্বক এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির কৈফিয়ত বিবেচনার পর কার্যকরী পরিষদ দোষী বিবেচিত যেকোনো সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
৪৭. বহিষ্কার
৪৭.১. জেলা সংসদ ও শাখাসমূহের কার্যকরী সংসদ কর্তৃক কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সংসদের অনুমোদনের পর চূডান্তভাবে গৃহীত হবে এবং কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদ ও জাতীয় পরিষদের কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে জাতীয় সম্মেলন।

অনুচ্ছেদ-৮: নির্বাচন

৪৮. সম্মেলনের নির্বাচনি অধিবেশনে কেন্দ্রীয়/জেলা/শাখা সংসদ এবং জাতীয় পরিষদের সংগঠকগণ নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনি অধিবেশন শুরুর পূর্বমুহূর্ত থেকে পূর্ববর্তী কেন্দ্রীয়/জেলা/শাখা সংসদ ও জাতীয় পরিষদ বাতিল বলে গণ্য হবে।
৪৯. সংগঠনের সাংগঠনিক বছর বাংলা সনের ১ বৈশাখ থেকে চৈত্রের শেষদিন পর্যন্ত বিবেচিত হবে। অনিবার্য কারণবশত নির্বাচনের তারিখ ৯০ দিন পর্যন্ত এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া যাবে। কেন্দ্রীয় সংসদ জাতীয় পরিষদ, জেলা সংসদ কেন্দ্রীয় সংসদ ও শাখা সংসদ জেলা সংসদের অনুমোদন গ্রহণ করবে।

অনুচ্ছেদ-৯: গঠনতন্ত্রের ব্যাখ্য ও বিশেষ সংশোধনী

৫০. গঠনতন্ত্রের ব্যাখ্যা
গঠনতন্ত্রের যেকোনো ধারা অথবা উপ-ধারার ব্যাখ্যার প্রশ্নে জাতীয় সম্মেলনের দুই অধিবেশনের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জাতীয় পরিষদ ব্যাখ্যা দান করতে পারবে। গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী জাতীয় সম্মেলন।

৫১. বিশেষ সংশোধনী
বাংলা একাডেমী কর্তৃক প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানরীতি অনুসরণে ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রের বানানসমূহ লিখিত হবে।
অনুচ্ছেদ-১০: শপথনামা

আমি মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাসংগ্রাম ও আমাদের মুক্তিসংগ্রামের নানা পর্বের শহিদদের নামে শপথ করছি যে, আমি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ঘোষণাপত্র ও আদর্শ উদ্দেশ্যের প্রতি অবিচল থাকব এবং একজন শিল্পীকর্মী হিসেবে দেশ ও দেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে আমার কর্মজীবন উৎসর্গ করব। এক শোষণমুক্ত সুখী সুন্দর হাসিগানে মুখরিত বাংলাদেশ গড়ার কাজে আমার সৃজনশীল মেধা ও সত্তাকে নিয়োজিত রাখব। জয় উদীচী।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.